স্মরণীয় ব্যক্তিত্ব


মোঃ ফজলে রাব্বী মিয়া
মাননীয় ডেপুটি  স্পিকার
বাংলাদেশে জাতীয়  সংসদ।

মোঃ ফজলে রাব্বী মিয়ার জন্ম ১৯৪৬ সালের  ১৫ এপ্রিল গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার ভরতখালী  ইউনিয়নের গটিয়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। এই রাজনীতিবিদের জীবন বর্ণাঢ্যময়। রাজনীতিতে তিনি স্থানীয়,আন্তর্জাতিক জাতীয়,  পরিমন্ডলে উজ্জ্বল নক্ষত্র। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর ৭ম বারের মত বিপুল ভোটে তিনি সংসদ নির্বাচিত হয়ে দ্বিতীয় দফায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। জাতীয় রাজনীতিতে বিভিন্ন বিষয়ে অবদানের পাশাপাশি নিজ এলাকার উন্নয়নে  তিনি  সবর্দাই নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। অত্যন্ত পরিশ্রমী এই রাজনীতিবিদ এলাকায় থাকলে সর্বক্ষনেই ব্যস্ত থাকেন নানাবিধ উন্নয়মুলক কর্মকান্ডে । বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা এবং উন্নয়নে তিনি খুবেই আগ্রহী। উদয়ন মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠায় এবং ধাপে ধাপে একাডেমিক এবং অবকাঠামো উন্নয়নে তার নিরলশ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। কলেজ প্রতিষ্ঠা, এমপিওভুক্ত করন,স্নাতক(পাস) অনুমোদন এবং স্নাতক পর্যায়ে এমপিওভুক্তকরনে তিনি প্রত্যক্ষ সহযোগিতা করেন। তিনি গভর্নিং বডির সভাপতি থাকাকালিন তার অভিজ্ঞ,দক্ষ.চৌকস নেতৃত্বে উদয়ন মহিলা কলেজ অত্র জেলার মধ্যে এক ব্যতিক্রমর্ধী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান  হিসেবে গড়ে উঠতে থাকে। মূলতঃ কলেজটির শক্তিশালি  অবস্থান তিনি গড়ে দেন। পরবর্তীকালে মেধাবী শিক্ষক নিয়োগে  স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় তিনি অটল থাকেন। তিনি শিক্ষক নিয়োগ বানিজ্যের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নেন। শিক্ষক  নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেন। উদয়ন মহিলা কলেজের প্রতিটি শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতার এই ধারাবাহিকতা সবসময় বিদ্যমান।


মরহুম আরমান আলী মন্ডল
বিদ্যানুরাগী সমাজবসেবক

মরহুম আরমান আলী মন্ডল অত্র এলকার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি মুক্তিনগর ইউনিয়নের দুইবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। শিক্ষানুরাগী এই ব্যক্তিত্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার ক্ষেত্রে অনন্য অবদান রাখেন। উদয়ন মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠায় তিনি সর্বদা শাহাদত হোসেন মন্ডলকে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দেন। উদয়ন মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রথমদিকে শিক্ষকদের বিনা বেতনে পাঠদান করতে হতো। তিনি বিভিন্ন সভায় উপস্থিত থেকে শিক্ষকদের উৎসাহ ও প্রেরণা দিতেন। কলেজ প্রতিষ্ঠায় তার অবদান স্মরনীয়। তিনি ৩০ জুলাই ১৯৯৯ইং তারিখে মৃত্যুবরণ করেন।

 

মরহুম শাহ্ আলী সরদার
বিদ্যানুরাগী ,সমাজবসেবক রাজনিতীবিদ

মরহুম শাহ্ আলী সরদার তদানীন্দন গাইবান্ধা মহকুমার সাঘাটা থানায় ১৯৩০ সালে জন্মগ্রহন করেন। প্রতিথযশা এই প্রবীন রাজনীতিবিদ সারাজীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের একজন সফল সংগঠক ছিলেন। তিনি গাইবান্ধা জেলার কৃষকলীগের দীর্ঘদিনের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। নিজ এলকার উন্নয়নে তিনি ব্যাপক কাজ করেন। তিনি মুক্তিনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। উদয়ন মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠায় বিশেষ ভূমিকা রাখেন। গভর্নিংবডির সদস্য থাকাকালীন তিনি শিক্ষকদের নানা পরামর্শ দেন। নবীন শিক্ষকদের  ধরে কাজ করার অনুপ্রেরণা দেন। তিনি নিয়মিত কলেজের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করতেন এবং কলেজ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। তিনি ৯ই ফেব্রায়ারী ২০২১ সালে জানুয়ারি মাসে মৃত্যুবরণ করেন।


ডঃ হামিদুল হক
ইউএসটির প্রতিষ্ঠাতা

ডঃ হামিদুল হক মজনু একজন সমাজকর্মী । একটি বেসরকারি সংস্থার প্রশিক্ষক হিসেবে গাইবান্ধা এসে উদয়ন মহিলা কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা জনাব শাহাদত হোসেন মন্ডলের সাথে ঘনিষ্ঠতা হয় এবং এর ধারাবাহিকতায় তিনি সাঘাটা উপজেলার পুটিমারিতে বিভিন্ন সময় আসেন। তার প্রতিষ্ঠিত বেসরকারি সংস্থা ইউএসটির সাথে উদয়ন স্বাবলম্বী সংস্থা দীর্ঘদিন পার্টনারশিপে কাজ করে। তিনি ‘ জনগণকেন্দ্রিক উন্নয়ন’ বিষয়ে পিএইচডি করার সময় মুক্তিনগর ইউনিয়নের মানুষের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর গবেষণায় উল্লেখ করেন। উদয়ন মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠায় শাহাদহ হোসেন মন্ডল তাকে উদ্বুদ্ধ করেন এবং তিনি কলেজ প্রতিষ্ঠায় শাহাদত হোসেন মন্ডলকে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন এবং সহযোগিতা করেন। বিভিন্ন সময় তিনি ক্লাস নেন এমনকি শ্রেণীকক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া বিষয়ে উৎসাহিত করেছেন। সে সময়ে শিক্ষকদের সাথে তিনি বিভিন্ন সময় নানা বিষয়ে মতবিনিময় করতেন এবং শিক্ষতায় মনোনিবেশ করার অনুপ্রেরণা দিতেন।


মরহুম মিজানুর রহমান (চুন্নু)
সাবেক প্রধান শিক্ষক
কচুয়াহাট উচ্চ বিদ্যালয়
 

মরহুম মিজানুর রহমান (চুন্নু) একজন শিক্ষাবিদ ছিলেন। তিনি কচুয়াহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে দীর্ঘদিন দায়িত্বপালন করে অবসর গ্রহন করেন। তিনি আমৃত্যু বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত ছিলেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে তিনি সর্বদা সচেষ্ট ছিলেন। উদয়ন মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠায় তিনি প্রথম থেকে সহযোগিতা করেছেন। কলেজটির অবকাঠামো নির্মানে তিনি অবদান রেখেছেন। কলেজের গভর্নিংবডিতে থেকে তিনি মূল্যবান পরামর্শ দিয়ে কলেজের সার্বিক উন্নয়নে  ভূমিকা রাখেন। বার্ষিক বনভোজন সহ কলেজের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি  সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহন করেন । তিনি ৩ মার্চ ২০১৮ সালে মৃত্যুবরন করেন।


মরহুম আনোয়ারুল ইসলাম সরকার
সাবেক অধ্যক্ষ
উদয়ন মহিলা ডিগ্রি কলেজ

সাবেক অধ্যক্ষ মরহুম আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এমন এক পর্যায়ে উদয়ন মহিলা কলেজের দায়িত্ব নিয়েছিলেন  যখন কলেজটি সবেমাত্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পথে। তাঁর অক্লান্ত কঠোর পরিশ্রম এবং আন্তরিকতার কারণে তিনি বহু প্রতিবন্ধকতাকে জয় করেছিলেন। ছাত্রী সংকট,কলেজের অবকাঠামো সমস্যা,আর্থিক সমস্যা সবগুলোই অত্যন্ত  ধৈর্য্যর  সাথে মোকাবেলা করে উদয়ন মহিলা কলেজকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর অকাল মৃত্যুতে উদয়ন মহিলা কলেজ একজন যোগ্য,বলিষ্ঠ নেতৃত্বকে হারায়। তাঁর দেখানো পথে উদয়ন মহিলা কলেজ এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি যে স্বপ্ন দেখতেন তা ইতিমধ্যে অনেকটা বাস্তবায়ন হয়েছে। তিনি ১৬ মে ২০১০ সালে সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যুবরন করেন।

Scroll to Top